Published Date : 23rd Sep, 2026 Published by Scolars Bangladesh Scoiety
বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল পড়াশোনা দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর একাডেমিক যাত্রা। সেই যাত্রা তাঁকে নিয়ে গেছে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় কেমব্রিজে। বর্তমানে তৌফিক হাসান ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের প্রকৌশল বিভাগের ন্যানোপ্রকৌশলের অধ্যাপক। একই সঙ্গে তিনি কেমব্রিজ গ্রাফিন সেন্টারের ন্যানোপ্রকৌশল গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ন্যানোপ্রযুক্তি, গ্রাফিন, দ্বিমাত্রিক পদার্থ, ক্ষুদ্র সেন্সর ও ভবিষ্যৎ ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত।
তৌফিক হাসানের উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় বাংলাদেশের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে। ২০০১ সালে তিনি সেখান থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যানালগ মাইক্রোইলেকট্রনিকসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। তাঁর পরবর্তী গন্তব্য ছিল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে তড়িৎ প্রকৌশলে পিএইচডি সম্পন্ন করেন ২০০৯ সালে।
কেমব্রিজে পিএইচডি শেষ করার পরও গবেষণার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তিনি কেমব্রিজের কিংস কলেজে জুনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেন। পরে রয়্যাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষণা ফেলোশিপ নিয়ে গ্রাফিনভিত্তিক নমনীয় ও ছাপযোগ্য ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এই গবেষণার ধারাবাহিকতায় গ্রাফিনভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে বাণিজ্যিক উদ্যোগ তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় গ্রাফিন ও অন্যান্য দ্বিমাত্রিক পদার্থ। অত্যন্ত পাতলা এসব পদার্থকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আরও ছোট, দ্রুত ও কার্যকর ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরি করা যায়, সেটিই তাঁর গবেষণার বড় একটি ক্ষেত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বুদ্ধিমান সেন্সর, আলোকবিদ্যা, শক্তি প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্র এবং ছাপযোগ্য ইলেকট্রনিকস।
কেমব্রিজের ন্যানোপ্রকৌশল গবেষণা দলে তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন ধরনের অতিক্ষুদ্র পদার্থ ব্যবহার করে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক ও আলোক প্রযুক্তি তৈরির কাজ চলছে। গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এমন সেন্সর তৈরি করা, যা খুব সামান্য পরিবর্তনও শনাক্ত করতে পারে। এসব প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে চিকিৎসা, রোবট, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্রে।
তাঁর গবেষণার আরেকটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হলো ইলেকট্রনিক ত্বক। মানুষের ত্বকের মতো স্পর্শ ও পরিবেশের পরিবর্তন অনুভব করতে পারে এমন কৃত্রিম ত্বক তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর দল কাজ করছে। ভবিষ্যতের রোবটকে আরও সংবেদনশীল করে তোলা থেকে শুরু করে চিকিৎসা প্রযুক্তি পর্যন্ত এ ধরনের গবেষণার ব্যবহার হতে পারে।
শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক একাডেমিয়াতেও তৌফিক হাসানের অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি কেমব্রিজের একটি কলেজের অধ্যাপক ফেলো এবং প্রকৌশল শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত। ন্যানোপ্রযুক্তি ও আলোক প্রযুক্তিতে তাঁর অবদানের জন্য তিনি অপটিকা ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর গবেষণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
২০২২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক নথিতে তাঁকে ন্যানোপ্রকৌশলের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের তালিকাতেও তাঁকে ন্যানোপ্রকৌশলের অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একজন প্রকৌশল শিক্ষার্থী থেকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়ে ওঠার এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি সংযোগের গল্পও। যে শিক্ষাজীবনের শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে, সেই পথ পেরিয়ে তৌফিক হাসান এখন ন্যানোপ্রযুক্তির মতো ভবিষ্যতমুখী একটি ক্ষেত্রে কেমব্রিজের গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
গ্রাফিন ও অতিক্ষুদ্র পদার্থের জগতে তাঁর গবেষণা হয়তো সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু ভবিষ্যতের সেন্সর, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, রোবট ও চিকিৎসা প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে এসব গবেষণার প্রভাব তৈরি হতে পারে। আর সেই গবেষণার নেতৃত্বে থাকা একজন অধ্যাপকের একাডেমিক যাত্রার শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকেই।
Do you think that the non-resident Bengalis should have the right to vote in the upcoming election? Justify your answer. What do you think will be the proper way to implement the voting system?